গত সোমবার বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?
মমতার অভিযোগ, ‘২০০৪ সালেও এমন পরিস্থিতি দেখিনি। ১৯৭২ সালের সন্ত্রাসের কথা শুনেছি, চোখে দেখিনি। কিন্তু এই সরকার সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন কালো ইতিহাস তৈরি করেছে। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করা হয়েছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেইড করা হয়েছে, সব অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তৃণমূল নেত্রীর পদত্যাগ না করা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা স্বাভাবিক নিয়মে কার্যত বিলুপ্ত হয়।
পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে রাজি হননি বলে নানা জল্পনা চলতে থাকে। এরপর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল আর. এন. রবি পদক্ষেপ নেন বলে জানানো হয়।
এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ঠিক মধ্যরাতে (রাত ১২টা) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করায় নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ৯ মে শপথ নেবেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। ফলে ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত রাজ্য কে পরিচালনা করবে- এই প্রশ্নে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল আর. এন. রবি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়। রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দেন।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়, এর জন্য আলাদা করে রাজ্যপালের নির্দেশের প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার ক্ষমতা অনুযায়ী রাজ্যপাল এই প্রক্রিয়াগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।