দীর্ঘ ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও বেতন কাঠামোয় কার্যকর কোনো পরিবর্তন না আসায় তাদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
কর্মচারীদের মতে, ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের অধিকাংশ কর্মচারী ব্যাংক, বীমা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। মাস শেষে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে পে-কমিশন গঠন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সরকার ৩ ধাপে ৩ বছরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে— যা কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর যদি পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাস্তবে এর সুফল আমরা পাব না। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই বৃদ্ধি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।’
সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ‘কাজ বেশি, মাইনা কম’—এই বাস্তবতায় আমরা দিন পার করছি। তাই দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।’
কর্মচারীদের দাবি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে পে-স্কেলের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই আংশিক বেতন বৃদ্ধি বাস্তবে কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না।
এমতাবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সর্বোচ্চ দুই ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতাসমূহ কার্যকর করা হলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে।