মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়েছে ২৫০০ হেক্টর জমির ধান

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও ২৫০০ হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টরে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্তত ৪৯ হাজার কৃষক।

সোমবার (৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা। পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

এদিকে অতিবৃষ্টির প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সোমবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পর দুপুরে রোদ্র ওঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে।

নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টায় ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩ দশমিক ২৬ মিটার হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৫ মিটার, বেড়েছে ১৭ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২ দশমিক ৫৮ মিটার, যা ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কমে ১ দশমিক ৭২ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার কম।

পাউবো জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বিপুল পরিমাণ জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ধান শুকাতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102