রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

তোমরা প্রত্যেকে একজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে : প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কারা জানো? তোমরা—এই গ্যালারিতে বসে থাকা তোমরাই আজকের প্রধান অতিথি, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শত শত শিশু-কিশোরের উপস্থিতিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আশির দশকের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে এবার ক্রীড়াঙ্গনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ আটটি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিযোগী।

এই শিশু-কিশোরদের মধ্যেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে ইনশা আল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও স্থপতি তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হবে।’

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক বৈঠকে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়। তখন বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় বসে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি’ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিই। সারা দেশের শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করে একটি নতুন ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, আজ তা বাস্তবায়িত হলো।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশের ছাত্র-জনতা দেশকে আবার স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়েছে। এখন সেই পথ ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এই প্রজন্মের।’

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্বাগত বক্তব্যে জানান, ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি ইভেন্টে সারা দেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। পৌনে ৪টায় জাতীয় সংগীতের বাদ্যযন্ত্রে পরিবেশিত সুর বাজানো হলে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস লিগ পদ্ধতিতে। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেরা খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102