মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে পাঁচ দফা দাবিতে র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, সিগারেট ও বিড়ির অগ্রিম আয়করের বৈষম্য দূর করা, বিড়ি শ্রমিকদের রেশন সুবিধা চালু করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানান শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের ইতিহাস আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেছে। শ্রমিকরাই এ দেশের উন্নয়নের প্রাণশক্তি, তাদের ঘামে গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক ভিত। কুটির শিল্প হিসেবে পরিচিত বিড়ি একটি শ্রমঘন শিল্প। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিড়িতে কোনো শুল্ক ছিল না। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই শিল্পকে ধ্বংস করতে বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলোকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। ফলে রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে আগামী বাজেটে বিড়িতে শুল্ক বৃদ্ধি না করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিড়ি শ্রমিকরা আরও বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ১৮ লাখ শ্রমিক বিড়ি কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সুতরাং এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে বিড়ি শ্রমিকদের রেশন সুবিধা চালু করতে হবে। এদিকে বিড়ি ও সিগারেট একই গোত্রভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বিড়ির অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ, আর সিগারেটের ৫ শতাংশ। আয়করের এই বৈষম্য দূর করতে হবে। এ ছাড়া নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা বিড়ি শিল্পের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল বিড়ি। নকল বিড়ির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুতরাং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সহসভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন। এ সময় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, মো. লুতফর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহকারী সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমুখ।