যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাদের শ্রেণিবদ্ধ নেটওয়ার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য সাতটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। তবে আলোচিত এ উদ্যোগে জায়গা পায়নি এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি ও নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইলন মাস্কের স্পেসএক্স, ওপেনএআই (চ্যাটজিপিটির নির্মাতা), গুগল, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) এবং রিফ্লেকশন। এর আগে পেন্টাগনের সঙ্গে ওপেনএআই ও প্যালান্টিরসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এআই-সংক্রান্ত চুক্তি ছিল।
পেন্টাগন জানিয়েছে, এসব এআই প্রযুক্তি ‘আইনসম্মত কার্যক্রমে’ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘এআই-প্রথম যুদ্ধক্ষম বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সব ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রগামিতা নিশ্চিত করা হবে।
তবে অ্যানথ্রপিককে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। জানা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত আরোপের দাবি জানিয়ে আসছিল কোম্পানিটি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এসব শর্ত মানতে অনাগ্রহ দেখায়। ফলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে পেন্টাগন অ্যানথ্রপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে যা আগে সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো।
এ অবস্থায় অ্যানথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক সরকারের ওই পদক্ষেপ স্থগিত করেন।
অন্যদিকে, সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলেছে। অ্যানথ্রপিক তাদের নতুন সাইবার নিরাপত্তা টুল ‘মাইথোস’ উন্মোচনের পর কোম্পানির প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যানথ্রপিককে বাদ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থের বাজার থেকেও কোম্পানিটিকে দূরে সরিয়ে রাখছে। গত বছরের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ পেন্টাগনের জন্য এআই ও সাইবার অপারেশনে ব্যয়ের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা পেতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, তাদের জেনএআইডটমেইল প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে ১৩ লাখ প্রতিরক্ষা কর্মী ব্যবহার করেছেন, যা সামরিক খাতে এআই ব্যবহারের দ্রুত বিস্তারেরই ইঙ্গিত দেয়।