শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

২০ বছর পর আসছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’র দ্বিতীয় সিনেমা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

একটা সিনেমার সিক্যুয়েলের জন্য দুই দশক অপেক্ষা করতে হলো! যে সিনেমাটি এত সাফল্য পেয়েছিল তার সিক্যুয়েলের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা অবাক হওয়ার মতো বিষয় বটে। ২০০৬ সালে যারা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ সিনেমাটি দেখেছিলেন তারা জানেন এই অপেক্ষাটা কেমন।

ডেভিড ফ্রাঙ্কেল পরিচালিত আমেরিকান কমেডি ড্রামা সিনেমাটি বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। মাত্র ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলার। এমন সাফল্যের পরও এত বছর সিনেমাটির পরবর্তী সিক্যুয়েল না আসায় অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে সেই হতাশা কাটানোর খবর এসেছে। ১ মে পর্দায় আসছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও আশাবাদী হওয়ার মত খবর আছে। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনে, অর্থাৎ ১ মে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে এই সিনেমা।

‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ নির্মিত হয়েছিল লরেন ওয়েইসবর্গারের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে। আগের সিনেমার ধারাবাহিকতায় এটিও পরিচালনা করেছেন ডেভিড ফ্রাঙ্কেল। চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সিনেমা বলা হচ্ছে এটিকে। সিনেমার প্রধান আকর্ষণ হলিউডের তিনজন জনপ্রিয় তারকা মেরিল স্ট্রিপ, অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং এমিলি ব্লান্ট। আরও অভিনয় করেছেন-স্ট্যানলি টুসি, জাস্টিন থেরাক্স, কেনেথ ব্রানা, ট্রেসি থমাস প্রমুখ।

ফ্যাশনের চাকচিক্য, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্খা আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য সব কিছুর নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটেছিল সেই সিনেমাতে। ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ একদিকে যেমন নারীর পেশাগত সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছে, অন্যদিকে করপোরেট জগতের অনেক মুখোশ উন্মোচন করেছে। সিনেমার কাহিনি শুরু হয় উচ্চাকাঙ্খী সাংবাদিক অ্যান্ডি স্যাক্সকে কেন্দ্র করে। একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনে চাকরি করেন, যেটির সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলি।

প্রথম সিনেমায় অভিনয়ের সময় তিনটি অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের বয়স ছিল ৫৬ বছর। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এবার পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি আরও পরিণত। সম্পাদক প্রিস্টলির ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে অভিনয় করা সাংবাদিক অ্যান্ডি স্যাক্সরূপী অ্যান হ্যাথাওয়ের বয়স ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ২৩ বছর। নিউইয়র্ক সিটির রানওয়ে ম্যাগাজিনের কুখ্যাত নিষ্ঠুর প্রধান সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলির অনেক অপমানজনক আচরণ তিনি মুখ বুজে সহ্য করেছেন শুধু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়।

এভাবে কাজ করতে করতে একদিন মিরান্ডার আরেক জাঁদরেল সহযোগী সাংবাদিক এমিলিকে ছাড়িয়ে যায়। এবারের সিনেমায় সাংবাদিক অ্যান্ডির পদোন্নতি দেখা যাবে। তিনি ফিচার সম্পাদক হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাকে উপহাস করতে থাকা এমিলি নতুন সিরিজে তাকে আরও তিরস্কারের প্রস্তুতি নিয়েছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে সিনেমায় পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেতে ওঠা অ্যান্ডি আর এমিলি সমবয়সী। এ কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। যা কখনো কখনো হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পেশার বাইরেও ব্যক্তিগত জীবন উপভোগেও তাদের মধ্যে লেগে থাকে বিবাদ।

এটি মুক্তির আগে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। পশ্চিমা মিডিয়ায়ও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিশেষ করে অ্যান হ্যাথাওয়ে ও এমিলি ব্লান্টের ভিলেইন বসের বিষাক্ততা নিয়েও দারুণ আলোচনা চলছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন ৭৬ বছর বয়সে এসে মেরিল স্ট্রিপ কি তার আগের সেই মেজাজ প্রদর্শনে সফল হবেন? তরুণ বয়সী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান ও এমিলি কি মাঝ বয়সে এসে তাদের সেই খুনসুটি আরও আকর্ষণীয় করে দেখাতে পারবেন? সবমিলিয়ে কৌতুহলের অন্ত নেই দর্শকদের। ধারণা করা হচ্ছে আগের সিনেমার মত এটিও দর্শকদের মন জয় করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102