বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘মেঘ চুরি’র অভিযোগ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সম্প্রতি ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি এক টিভি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তুরস্ক ও ইরান অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র নাকি বিমান ব্যবহার করে মেঘ ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সংঘাতে ব্যস্ত থাকায় ইরাকে আবার বৃষ্টি ফিরেছে। যদিও এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

এ বিষয়ে ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি স্পষ্টভাবে জানান, এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে অযৌক্তিক। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে ইরাকে বেশি বৃষ্টিপাত হবে এমন পূর্বাভাস অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-খাইকানি আবারও ‘বায়ুমণ্ডলীয় অস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি। একই ধরনের দাবি সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

তুরস্কেও কিছু ব্যবহারকারী সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্পর্ক টানার চেষ্টা করছেন। অথচ সরকারি তথ্য বলছে, দেশটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রাকৃতিক আবহাওয়ার অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

এ ছাড়া ইরানের দীর্ঘস্থায়ী খরা নাকি হঠাৎ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে এমন দাবিও ঘুরে বেড়াচ্ছে অনলাইনে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ কাবে মাদানি বলেন, এসব গুজবের পেছনে মূলত মানুষের অবিশ্বাস এবং জলবায়ু সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান কাজ করছে।

এই আলোচনায় বারবার উঠে আসছে ‘ক্লাউড সিডিং’ নামের একটি পদ্ধতির কথা। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে বিদ্যমান মেঘে বিশেষ কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রভাব খুবই সীমিত সাধারণত সর্বোচ্চ ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়ানো সম্ভব।

আবুধাবির খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ানা ফ্রান্সিস বলেন, এটি মূলত মেঘকে সামান্য ‘উদ্দীপিত’ করে, পুরো আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো শক্তিশালী নয়।

কিছু মানুষ মনে করেন, এক অঞ্চলে ক্লাউড সিডিং করলে পাশের এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এ ধরনের প্রভাবের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, বর্তমানে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যা সরাসরি আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত আবহাওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন।

আইপিআইসির তথ্য অনুযায়ী, মানুষের কার্যকলাপজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে, এবং বৃষ্টিপাত আরও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। কখনো দীর্ঘ খরা, আবার হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

জর্ডানের এক গবেষক ড. এসরা তারাওনেহ বলেন, এসব কারণে মানুষের মধ্যে পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আর এই অনিশ্চয়তার সুযোগেই নানা ষড়যন্ত্রমূলক ব্যাখ্যা সহজে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সারা স্মিথের মতে, জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মানুষ সহজ ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা প্রায়ই বাস্তবতা থেকে দূরে থাকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102