যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত হিশাম আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য জমা দিয়েছেন প্রসিকিউটররা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যার কয়েক দিন আগে থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT)-এর কাছে লাশ গুম করা এবং আইনি জটিলতা এড়ানোর নানা উপায় নিয়ে প্রশ্ন করেছিল ঘাতক।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ গত ১৬ এপ্রিল দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিল—একটি মানুষের দেহ ময়লার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী ঘটবে? শুধু তাই নয়, সে চ্যাটবটটিকে তার গাড়ির আইডেন্টিফিকেশন নম্বর পরিবর্তন করা এবং লাইসেন্স ছাড়া বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করেছিল।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা বৃষ্টি (২৭)। লিমন ইউএসএফ-এর ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে এবং ব্রিস্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। তারা দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
এপির প্রতিবেদনে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর লিমনের ফ্ল্যাটের ডাস্টবিন থেকে তার রক্তমাখা কাপড় ও আইডি কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তকারী দল লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পেয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পরও চ্যাটজিপিটির কাছে প্রশ্ন করা থামায়নি হিশাম। লিমনের নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সে জানতে চেয়েছিল, মাথায় স্নাইপারের বুলেট লাগার পরও কি কেউ বেঁচে ফিরতে পারে? এবং আমার আগ্নেয়াস্ত্রের আওয়াজ কি প্রতিবেশীরা শুনতে পাবে? এমনকি ২৩ এপ্রিল সে চ্যাটবটটির কাছে ‘বিপদাপন্ন নিখোঁজ প্রাপ্তবয়স্ক’ শব্দটির আইনি অর্থও জানতে চেয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নাহিদা বৃষ্টি বাংলাদেশের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমনের কক্ষ থেকে বৃষ্টির ক্রেডিট কার্ড ও আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।