ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মিরাটের পিভিএস মলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন উদিতা ত্যাগী। সেখানে তিনি হিন্দু পরিবারগুলোকে অল্প বয়সে বিয়ে করা এবং কমপক্ষে চারটি করে সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে তার চরম আক্রমণাত্মক বক্তব্যে।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থানের সাফাই গেয়ে উদিতা বলেন, “নয়টি সন্তান হোক বা চারটি—যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আমার সন্তানের গলা কাটা হচ্ছে এবং আমার ঘরে না আছে সন্তান, না আছে অস্ত্র, তবে আমি বাঁচব না। এটি স্রেফ একটি বাস্তবসম্মত হিসাব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার যদি চারটি সন্তান থাকে, তবে তারা আমার পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করবে এবং আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। এটা এখন স্রেফ সম্ভাবনার খেলা।”
হুমকির উৎস সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বলেন, “ওপাশের ওই জিহাদি শূকরগুলো, যারা শূকরের মতো বংশবৃদ্ধি করছে—তারা ছাড়া আর কে হতে পারে? আর কতটুকু স্পষ্ট করা দরকার? আমি মুসলিমদের কথাই বলছি।”
ভিডিওতে তাকে বারবার মুসলিমদের “জিহাদি শূকর” হিসেবে সম্বোধন করতে এবং তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে অশালীনভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়।
পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ বিজেপি মহিলা মোর্চার আঞ্চলিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উদিতা ত্যাগী এর আগেও একাধিকবার সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জানা গেছে, মিরাটের ওই অনুষ্ঠানে তিনি মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তথাকথিত ‘মোকাবেলা’ করতে হিন্দুদের বেশি করে সন্তান নেওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছিলেন।
এখনও নীরব বিজেপি
এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা বা উদিতার মন্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বা উদিতা ত্যাগীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উস্কানিমূলক এই বক্তব্যের জন্য দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।