মধ্যপ্রদেশের কাটনি রেলওয়ে স্টেশনে ‘শিশুশ্রমের’ সন্দেহে বিহারের ১৫৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৮ জন শিক্ষককে সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) কর্তৃক আটক করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১১ এপ্রিল বিহারের সীমান্তঞ্চল থেকে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে এই শিক্ষার্থীদের গতিরোধ করা হয়। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ সরকারি শেল্টার হোমে রাখার পর গত ২৫ এপ্রিল তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিহারের আরারিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত এবং ‘সাম্প্রদায়িক বৈষম্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের কারণেই শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অভিভাবকরা পরিচয়পত্র নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় শিশুদের আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছে।৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী এই শিশুদের কর্ণাটকের বিদার এবং মহারাষ্ট্রের লাতুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পুলিশ দাবি করে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। গত ১২ এপ্রিল কাটনি জিআরপি থানায় ৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র ১৪৩(৪) ধারায় (শিশু পাচার সংশ্লিষ্ট) মামলা করা হয়।
তবে অভিভাবক বিবি আঞ্জুমান বলেন, “আমার নাতি-নাতনিরা উন্নত শিক্ষার জন্য কর্ণাটকের বিদারে পড়াশোনা করে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তারা ভ্রমণ করছিল। তাহলে তাদের কেন আটকানো হলো?”আরেক অভিভাবক মোহাম্মদ শওকত অভিযোগ করেন যে, পরিচয় নিশ্চিত করার পরও মুক্তি দিতে দেরি করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।অভিভাবকরা জানান, শেল্টার হোমে থাকাকালীন শিশুরা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা এই ঘটনার জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এ ধরণের হয়রানি বন্ধে সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) বা নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানান।
পুলিশ ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, পাচার রোধে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাটনি জিআরপি-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এল. পি. কাশ্যপ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিক্ষকরা মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও অনেক শিশুর কাছে বৈধ টিকেট বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল না।অন্যদিকে, ‘ইমারত-ই-শরীয়াহ’র কাজী আতিকুল্লাহ এবং আইনি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষার জন্য সফর করা একটি বৈধ ও সাংবিধানিক অধিকার। তারা ইতিমধ্যে কাটনি থানায় দায়ের করা এফআইআর-কে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন।