বিজেপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘‘বাংলাদেশি মুসলিমরা হয়তো ভয়ের বশবর্তী হয়ে ভোট দেয়, কিন্তু বিজেপি সরকার থাকলে একজন বাংলাদেশি হিন্দুও ভীত হবে না। ভারতে যদি হিন্দুরা নিরাপদ না থাকে, তবে তারা কোথায় যাবে?’’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, যারা অত্যাচারিত হয়ে এ দেশে এসেছেন, তাদের নাগরিকত্ব প্রদান বিজেপির অন্যতম অগ্রাধিকার।
তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘‘আসামের ডিটেনশন ক্যাম্পে কোনো বাঙালি হিন্দু বন্দি নেই। তৃণমূল নেতারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। যদি আসামের কোনো ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু বন্দি থাকার প্রমাণ কেউ দিতে পারেন, তবে আমি আজই পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।’’
তিনি ১৯৪৮ সালের ‘ইললিগাল ইমিগ্র্যান্ট এক্সপালশন অ্যাক্ট’ (অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার আইন)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আইনের ক্ষমতা আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গসহ অন্য সীমান্ত রাজ্যেও থাকা উচিত যাতে অনুপ্রবেশ কারীদের দ্রুত শনাক্ত ও বহিষ্কার করা যায়।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে হিমন্ত বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশের ফলে বাংলার জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে যাচ্ছে। যদি কোনো অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তবে সেখানে শরিয়াহ আইনের দাবি উঠতে শুরু করে। যতক্ষণ পর্যন্ত জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য বজায় থাকে, ততক্ষণই ধর্মনিরপেক্ষতা নিরাপদ।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এই পরিবর্তনের প্রভাব পুরো ভারতের ওপর পড়বে।
মমতা ব্যানার্জির ‘মাছ-ভাত’ রাজনীতির খোঁচা দিয়ে হিমন্ত বলেন, ‘‘মমতা দিদি চাইলে আমার সাথে খেতে পারেন। আমি তাদের চেয়ে এক কেজি বেশিই খেতে পারব।’’ অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করার প্রয়োজন নেই। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর অভিষেককে দুবাই পালিয়ে যেতে হবে।’’
শনিবার বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর সিকদারের সমর্থনে রোড-শো করেন হিমন্ত। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দখলে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনে ৯২.৮৮ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বিজেপি নেতৃত্ব আশা করছে, সিএএ এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে বড় ভূমিকা রাখবে।