সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ‘হিট স্ট্রোক’ এর ঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক হঠাৎ করে হলেও এর বেশ কিছু পূর্বলক্ষণ শরীরে প্রকাশ পায়। যাকে বলা হয় ‘হিট এক্সহশন’ বা তাপজনিত ক্লান্তি। সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
হিট স্ট্রোক একটি অত্যন্ত জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা (Medical Emergency)। শরীর যখন অতিরিক্ত তাপ সহ্য করতে পারে না এবং নিজেকে ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই হিট স্ট্রোক ঘটে। এর মারাত্মক পরিণতি এড়াতে শরীর পূর্বেই কিছু সংকেত দেয়।
১. প্রচণ্ড ক্লান্তি ও দুর্বলতা
তীব্র গরমে কাজ করার সময় যদি হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করেন এবং শরীর ঝিমঝিম করে, তবে এটি হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ার কারণে এই দুর্বলতা তৈরি হয়।
২. মাথা ঘোরা ও মাথা ব্যথা
হিট স্ট্রোকের ঠিক আগে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। একই সাথে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি হতে পারে। এটি মস্তিষ্কে তাপের প্রভাবে রক্ত চলাচলের পরিবর্তনের কারণে হয়।
৩. বমি বমি ভাব ও মাংসপেশির খিঁচুনি
যদি রোদের মধ্যে চলাফেরার সময় বমি বমি ভাব লাগে বা বমি হয়, তবে বুঝতে হবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া হাত-পা বা পেটের মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা বা খিঁচুনি (Heat Cramps) হতে পারে।
৪. হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি
হিট স্ট্রোকের আগে হৃদস্পন্দনের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। শরীরকে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টায় হার্ট দ্রুত রক্ত পাম্প করতে থাকে। পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও ছোট হয়ে আসতে পারে।
৫. মানসিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি
হিট স্ট্রোকের অন্যতম বড় সংকেত হলো আবোলতাবোল বলা বা অসংলগ্ন আচরণ। হঠাৎ খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ দিতে না পারা বা আশেপাশে কী হচ্ছে তা বুঝতে না পারা- এগুলো গুরুতর লক্ষণ।
৬. ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘাম
সাধারণত গরম লাগলে শরীর ঘামে। কিন্তু হিট স্ট্রোকের কাছাকাছি পৌঁছালে অনেক সময় ঘাম হওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বক শুকনো ও লালচে হয়ে ওঠে। তবে পরিশ্রমজনিত কারণে হিট স্ট্রোক হলে শরীর ঘামে ভেজাও থাকতে পারে।
হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক করণীয়:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।
শরীরের অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিয়ে বাতাস করতে হবে।
চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিতে হবে এবং সম্ভব হলে ভেজা কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিতে হবে।
রোগী জ্ঞান না হারালে তাকে ধীরে ধীরে পানি বা স্যালাইন পান করাতে হবে।
শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে বগল, ঘাড় ও কুঁচকিতে বরফ বা ঠান্ডা পানি দেওয়া যেতে পারে।
দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষ পরামর্শ: প্রখর রোদে যারা বাইরে কাজ করেন, তারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছায়ায় বিশ্রাম নিন এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে হিট স্ট্রোকের মতো জীবনঘাতী ঝুঁকি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।