যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মরদেহ গোপন ও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে লিমনের সাথে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) এখনো উদ্ধার হননি।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাদের সহপাঠী ও স্বজনরা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ নিভৃতে থাকার পর গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক পারিবারিক বন্ধু পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান।
এর পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং শুক্রবার সকালে ট্যাম্পার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ‘হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের’ কাছ থেকে লিমনের নিথর দেহ উদ্ধার করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।
লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার রুমমেট হিশাম সালেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরের তথ্যমতে, হিশামের বিরুদ্ধে মূলত একটি গার্হস্থ্য সহিংসতা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে লিমনের মৃত্যুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
তার বিরুদ্ধে মরদেহ অবৈধভাবে সরানো, মৃত্যুর খবর কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া, প্রমাণ নষ্ট করা, এবং মিথ্যা কারাবাসের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত হিশামের বাড়ি থেকে একটি কল পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে পৌঁছালে তিনি ভেতরে দরজা আটকে অবস্থান নেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ২০ মিনিট পর পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী ‘সোয়াট’ টিম তলব করা হয়। দীর্ঘক্ষণ বাড়িটি ঘিরে রাখার পর অবশেষে হিশাম আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত হিশাম একসময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়া গেলেও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ। বৃষ্টিকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস’ ভবনে দেখা গিয়েছিল।
বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, লিমন ও বিথীর মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তারা কেবল বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বৃষ্টির সন্ধানে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
সূত্র : সিএনএন