মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব যখন ধীরে ধীরে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এবং জ্বালানি সংকট নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে, ঠিক তখনই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মেয়াদ পূর্ণ করার পর ২০২৭ সালে এলিসি প্রাসাদ ত্যাগ করবেন ম্যাক্রোঁ। এরপর তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে রাজনীতিতে ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার পরিকল্পনা নেই।
ম্যাক্রোঁ তার শেষ মেয়াদের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইতিবাচক অর্জনগুলো ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে পূর্বের ভুলগুলো সংশোধন করা।
তিনি আরও জানান, তার শাসনামলের সবচেয়ে কঠিন দিক ছিল অর্জিত সাফল্য ও অসমাপ্ত সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিতে তিনি সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় সফর করছেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সাইপ্রাসের গ্রিক অংশের নেতা নিকোস ক্রিস্টোডুলাইডিস। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্থায়ী সভাপতিত্বও সাইপ্রাসের হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে, কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় নিরাপদ ও সচল রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ কীভাবে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।