এপ্রিল থেকে জুন বা চৈত্র থেকে আষাঢ় পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হয়। এ সময়ে বজ্রপাতে প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল। বাংলাদেশে একদিনে বজ্রপাতে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে চাপাইনবাবগঞ্জে ১৭ জনের মৃত্যু অন্যতম। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একদিনেই ১০ জন এবং এর আগে বিভিন্ন সময়ে একদিনে ৯ থেকে ১২ জন পর্যন্ত নিহতের খবর পাওয়া যায়।
আপনি যদি কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলেন তবে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। নিয়মগুলো রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হল-
১. বজ্রঝড় সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে অবস্থান করুন।
২. গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে না যাওয়া, অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে যাবেন।
৩. বজ্রপাতের সময় ধান ক্ষেত বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।
৪. বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে যত দ্রুত সম্ভব ভবন বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাবেন না।
৫. শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখা এবং ঘরের ভেতরে নিরাপদে অবস্থান করা জরুরি।
৬. বজ্রপাতের সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখুন এবং আভাস পেলেই এগুলোর প্লাগ বিচ্ছিন্ন করুন।
৭. খোলা স্থানে অনেকে একসঙ্গে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া উচিত।
৮. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুটি ও তার, ধাতব খুটি, মোবাইল ফোনের টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
৯. গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা দিলে নদী বা জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।
১০. বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে যাবেন না। সমুদ্র বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।
১১. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর থাকলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ রাখবেন না।