মহান আল্লাহর অসীম রহমত ও দয়া ছাড়া পৃথিবীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। তার দয়া যেমন সাধারণ হিসেবে সমস্ত সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়, তেমনি কিছু বিশেষ আমলের মাধ্যমে মুমিন বান্দা তার ‘খাস’ বা বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হতে পারেন।
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনায় এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমতের দুয়ার খুলে দেয়।
ফরজ ইবাদতে একাগ্রতা
মহান আল্লাহর রহমত পাওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তার দেওয়া ফরজ বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা। মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে কিছু ইবাদতকে আমাদের ওপর আবশ্যক করেছেন।
এটি মূলত বান্দার আনুগত্যের এক পরীক্ষা। এ প্রসঙ্গে সূরা নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ আদায় করো, জাকাত প্রদান করো ও রাসুলের আনুগত্য করো; যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হতে পারো।’ অর্থাৎ ফরজ বিধান পালনের মাধ্যমেই আল্লাহর দয়া নিশ্চিত হয়।
ইহসানের অনুশীলন
জীবন ও ইবাদতের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ বা নিষ্ঠা বজায় রাখা রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ইহসান হলো আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে কাজ সম্পাদন করা।
একইসঙ্গে সৃষ্টির সেবা ও দয়া করাও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ: ৫৬)। অর্থাৎ যারা নিষ্ঠার সাথে সৎ কাজ করেন, আল্লাহর দয়া তাদের খুব কাছেই থাকে।
তাকওয়া ও আত্মসংযম
সব কাজে একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা এবং তার অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নামই তাকওয়া। একজন মুত্তাকি ব্যক্তি সর্বদা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন এবং আল্লাহর ইশারায় জীবন পরিচালিত করেন।
সূরা আরাফের ১৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘আমার দয়া প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, জাকাত দেয় এবং আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে।’
কুরআনের দিকনির্দেশনা অনুসরণ
পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ও হেদায়েতের আলো। এই মহাগ্রন্থের বিধিবিধান ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলন ঘটালে আল্লাহর বিশেষ দয়া লাভ করা সম্ভব।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘এই কিতাব আমি অবতীর্ণ করেছি, যা কল্যাণময়। সুতরাং তা অনুসরণ করো এবং সাবধান হও, তাহলে তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আনআম: ১৫৫)।
অবিরাম ক্ষমা প্রার্থনা
মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ বান্দার ওপর থেকে আজাব সরিয়ে রহমত বর্ষণ করেন।
পবিত্র কুরআনে হযরত সালেহ (আ.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ‘কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো?’ (সুরা নামল: ৪৬)।