প্রতিটি মুমিনের আজীবন লালিত স্বপ্ন থাকে গভীর আকুলতায় মক্কা শরিফ-এর কালো গিলাফ ছুঁয়ে দেখার। মদিনা মুনাওয়ারার সবুজ গম্বুজের ছায়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার। সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরে কাবা শরিফ-র সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণভরে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ পাঠ আর হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজায় উপস্থিত হয়ে ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ’ বলার চেয়ে মুমিনের জীবনে আনন্দের আর কী হতে পারে! মুমিনের অন্তর যেন কালো গিলাফ আর সবুজ গম্বুজের সঙ্গে এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ।
কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেকেরই এই স্বপ্ন পূরণ হয় না। সামনে হজের মৌসুম এলেই সেই আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজিরা ছুটে যান মক্কা-মদিনায়। তারা অবস্থান করেন আরাফা, মুজদালিফা ও মিনায়। কিন্তু যারা যেতে পারেন না, তাদের হৃদয়ে থেকে যায় অপূর্ণতার বেদনা। তবে ইসলামে এমন কিছু আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই হজের সমপরিমাণ সওয়াব লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞান শিখতে ও শেখানোর জন্য মসজিদে গেলে হজের সওয়াব পাওয়া যায়। আবু উমামা বাহেলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শুধু উত্তম বস্তু শেখার জন্য মসজিদে যায় অথবা তা শেখাতে যায়, তবে সে একটি পূর্ণ হজের সওয়াব পাবে।’ (তাবরানি)
ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করে সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নামাজ পড়লে হজের সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায়ের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে জিকির করে এবং সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তবে আল্লাহ তাকে একটি সম্পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব দেবেন।’ (সুনানে তিরমিজি)
আনাস (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি মহানবীর (সা.) খেদমতে এসে বলল, আমার জিহাদ করতে খুব আগ্রহ, কিন্তু সামর্থ্য নেই।’ নবী বললেন, ‘তোমার মা-বাবা দুজনের কেউ জীবিত আছেন?’ বলল, ‘আমার মা জীবিত আছেন।’ নবী (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করো। এটা যদি করতে পারো এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন, তবে তুমি হজ-ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। তাই আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা)
এশার নামাজ জামাতে আদায় করলে হজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ কি তোমাদের এশার নামাজ দেননি- যা জামাতে আদায় করলে হজের সমান সওয়াব এবং ফজরের নামাজ—যা জামাতে আদায় করলে ওমরাহর সমান সওয়াব।’ (সহিহ মুসলিম)