শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

ছড়িয়ে পড়েছে সাইলেন্ট কিলার পার্থেনিয়াম

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

সংস্পর্শেই হতে পারে নানা ধরনের রোগ। দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম। পার্থেনিয়াম একটি মারাত্মক ও বিষাক্ত আগাছা। এই আগাছা মানুষ, পশু ও ফসলের ক্ষতি করে থাকে।

দেখতে ধনে গাছের মতো। উচ্চতা দুই থেকে তিন ফুট। সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা ফুলে আকর্ষনীয় এই আগাছার নাম পার্থেনিয়াম। নাটোরসহ দেশের মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে এই গাছ।

এর ছোট সাদা ফুল ও চিকন পাতা রয়েছে। কোনো রকম যত্ন ছাড়াই এ আগাছা বাড়তে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশে এ আগাছা বেঁচে থাকতে সক্ষম বলে জানা গেছে। উঁচু এবং নিচু সব ধরনের মাটিতেই জন্মায় এ উদ্ভিদ।

কৃষিবিদ ও চিকিৎকরা বলেছেন,পার্থেনিয়াম একধরনের বিষাক্ত আগাছা। বিষাক্ত এই আগাছার বিস্তাররোধে এখই নিতে হবে পদক্ষেপ। না হলে কৃষি, কৃষক, গবাধিপশু ও মানবদেহের জন্য হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর। এই আগাছা নীরবে ক্ষতি করলেও জানে না বেশির ভাগ মানুষ।

নাটোরের পতিত জমি থেকে শুরু করে কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছ। কয়েক বছর ধরে এ বিষাক্ত উদ্ভিদটির বিস্তার নাটোর বেড়েই চলেছে। এটি রোধ করারজ জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যাহত হতে পারে ফসলের উৎপাদন।

নাটোরের বিভিন্ন ইউনিয়নে অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে পার্থেনিয়াম গাছ। রেললাইন ও রাস্তার ধারেও দেখা মিলছে বিষাক্ত উদ্ভিদটির।

কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালে এই এলাকায় পার্থেনিয়ামের পরিমান কম ছিল। তবে পার্থেনিয়াম নিধনে কৃৃষকদের নানা পরার্মশ দিচ্ছে বলে জানান কৃষিবিভাগ

সরেজমিনের দেখা যায়, বিষাক্ত এ আগাছাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। ফসলের ক্ষেতে একবার হয়ে গেলে তা নিধন করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষি জমিতে যে কোনো ফসল ফলাতে কৃষকরা এ বিষাক্ত আগাছাটির সম্মুখীন হচ্ছে। যত নিধন করা হয় পুনারায় ফসলের চারা গজানোর সঙ্গে সঙ্গে পার্থেনিয়ামের চারাও বেড়ে ওঠে। তাই পার্থেনিয়াম থেকে কৃষিজমি রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন কিছু সচেতনতা ও কয়েকটি পদক্ষেপ। তা না হলে ফসলের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।

পার্থেনিয়ামের বীজ খুবই ক্ষুদ্র ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্নভাবে। গরুর গোবর ও সেচসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়।

গবাদি পশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যাওয়া, তীব্র জ্বর ও বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। আর পশুর পেটে গেলে বিষক্রিয়া হওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়াও শুধু পশুই নয়, আগাছাটি মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে চুলকে লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। আক্রান্ত মানুষটির ঘনঘন জ্বর ও অসহ্য মাথাব্যাথাসহ নানান রোগে হতে পারে।

যেসব জায়গায় পার্থেনিয়াম গাছ দেখা যাবে সেখানে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের অবহিত করতে হবে। এখনই থেকেই আগাছা নিধনের করা দরকার বলছেন চিকিৎসক ও কৃষিবিদরা।

নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জুনাইদ হোসেন লেলীন, নলডাঙ্গা উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. পারভেজ আহমদ, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী জানান, দেখতে অনেকটা প্রাপ্তবয়স্ক ধনে গাছের মতো। এর ছোট সাদা ফুল ও চিকন পাতা রয়েছে। কোনো রকম যত্ন ছাড়াই এ আগাছা বাড়তে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশে এ আগাছা বেঁচে থাকতে সক্ষম বলে জানা গেছে। উঁচু এবং নিচু সব ধরনের মাটিতেই জন্মায় এ উদ্ভিদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102