চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৭ মাস বয়সি এক কন্যাশিশুকে ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে কন্যা শিশুটির পিতা মো. এরশাদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তের পরিবার এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরাগ ইউনিয়নের একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মো. এরশাদ (২৯) ও তার স্ত্রী রুমি আক্তার। এরশাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানকাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ছড়া এলাকায়। বেবি আক্তারের বাড়িও একই উপজেলায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বেবি আক্তার আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে স্বামীর বিরুদ্ধে নিজের ৭ মাস বয়সি কন্যাশিশুর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে মো. এরশাদকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, সাত মাস বয়সি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এরশাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ফাঁসাতে আমার স্ত্রী আমার সাত মাসের মেয়েকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছে। আমার স্ত্রী কেইপিজেডে চাকরি করেন। তিনি কর্মস্থলে গেলে মেয়েকে আমি দেখাশোনা করতাম। একদিন হঠাৎ মেয়ে কান্না শুরু করলে আমি সামলাতে না পেরে তাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলি।
পরে এক মহিলার কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়, শিশুটির হাতে সমস্যা হয়েছিল। চিকিৎসার পর সে কিছুটা শান্ত হয়। এরপর আমার স্ত্রী শিশুটিকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাইনি। পরে জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এরশাদের বোন কানিজ ফাতেমা বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। নিজের বাবা কখনো সাত মাসের শিশুর সঙ্গে এমন কাজ করতে পারে—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী রুমি আক্তারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মা ফোন রিসিভ করে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমার মেয়ে বর্তমানে মেডিকেলে আছে। ঘটনাটি সম্পর্কে সে বিস্তারিত জানাতে পারবে।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন জরুরি।