ভারতীয় সংগীতের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। স্তব্ধ হয়ে গেল সেই চঞ্চল ও চিরযৌবনা কণ্ঠস্বর, যা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কোটি কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রেখেছিল। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে আজ বিষণ্ণতার চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা বিনোদন দুনিয়া।
আশাজির প্রয়াণে বি-টাউনের তারকাদের মাঝে বইছে হাহাকার। সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রিয় গায়িকার প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, “মনে হচ্ছে শৈশবের একটা অংশ হারিয়ে ফেললাম।” তাঁর কাছে আশাজির কণ্ঠ ছিল জীবনের স্পন্দনের মতো।
অন্যদিকে, প্রিয় ‘আশা দিদি’কে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান সালমান খান। তিনি বলেন, “আশাজি আমার হৃদয়ে এক অপূরণীয় স্থান দখল করে ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া পুরো বিনোদন বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। “তাঁর মতে, এমন কণ্ঠ পৃথিবীতে আর কখনও ফিরে আসবে না।”
পরিচালক রামগোপাল ভার্মা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সৃষ্টি ‘রঙ্গিলা’ সিনেমার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘রঙ্গিলা রে’ গানের সেই জাদুকরী গায়কী আজও মানুষের মনে টাটকা। সেই কালজয়ী সৃষ্টির কারিগরকে হারানো তাঁর কাছে অকল্পনীয়।
এদিকে শোকের এই আবহে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ। আজই তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘রাজা শিবাজি’র বিশেষ গান মুক্তির কথা ছিল, কিন্তু প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সেই অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
এক নজরে বর্ণাঢ্য জীবন
জন্ম ও শুরু: ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই শিল্পী মাত্র ১০ বছর বয়সে গান দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
রেকর্ড: ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে তিনি নিজের নাম তুলেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।
কালজয়ী সৃষ্টি: ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’ কিংবা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো অজস্র অমর গান তিনি উপহার দিয়েছেন। কিশোর কুমার, মান্না দে ও মোহাম্মদ রফিদের মতো কিংবদন্তিদের সাথে তাঁর যুগলবন্দি ছিল অনন্য।
স্বীকৃতি: ভারত সরকার তাঁকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে।
গত রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সুর জাদুকরী। সুরের আকাশ আজ মলিন হলেও তাঁর রেখে যাওয়া সুরের মায়া আজীবন বেঁচে থাকবে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।