কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মেয়ে ও তরুণ নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জাহান প্রমিকে (২২) ৭ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পরিবারের দাবি। তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পূর্ব শহীদনগরের একটি বাসা থেকে প্রমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে তার গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের ঝাটিয়ারখীল এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সাজেদা আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে প্রমির স্বামী আবু ছৈয়দ মোহাম্মদ আনাস (২৮), তার বন্ধু আব্দুল্লাহ আল রিজভী (২৮), মা মারজান বেগম (৪৭) ও বোন নাসরিন আক্তারকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে অনলাইনে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রমির সঙ্গে আনাসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই বছরের মার্চে পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন। পরে প্রমির পরিবার সম্পর্ক মেনে নিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার প্রদান করে।
পরিবারের দাবি, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আনাস বিভিন্ন অজুহাতে প্রমির কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর সম্প্রতি আরও ৭ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে প্রমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে। এমনকি দ্বিতীয় বিয়ের হুমকিও দেন আনাস।
নিহতের বড় বোন সাজেদা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাতে আনাস, তার বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রমিকে নির্যাতন করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রমির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং খাটের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিল। ঘটনাস্থলে কোনো চেয়ার বা টেবিলও ছিল না বলে দাবি করেন স্বজনরা।
সাজেদা আরও জানান, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং এর আগেও স্বামীর নির্যাতনে প্রমিকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আনাস ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসার মালিক আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী উদ্যোক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই রাজীব জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।