অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫ টি ইউনিট সচল থাকলেও ৩টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি ২টি ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রের সব ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে ৩টি ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পানি স্বল্পতার কারণে রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি সব ইউনিট চালু অবস্থায় সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বর্তমানে লেকে পানির লেভেল থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৮০ মিটার সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু বর্তমানে পানি রয়েছে ৮১ দশমিক ০২ এমএসএল।
ফলে পানি স্বল্পতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকে পানির স্তর বাড়বে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
প্রসঙ্গত, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদের পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
এদিকে কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি লেকের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তিও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে লেকঘেঁষা পাঁচ উপজেলা- বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়িতে নৌপথে যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লেকের বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চরের কারণে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পলি জমে নাব্য সংকটও তৈরি হয়েছে। ফলে লেকনির্ভর হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।