শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

লিভার ভালো রাখার ১০টি কার্যকরী উপায়

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো লিভার বা যকৃৎ। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, হজমে সহায়তা, শক্তি উৎপাদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভার আজ ঝুঁকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

নিচে তুলে ধরা হলো লিভার ভালো রাখার ১০টি কার্যকর উপায়-

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা

অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার লিভারে চর্বি জমিয়ে ফ্যাটি লিভার তৈরি করে। তাই ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। লবণ ও চিনি কম খাওয়াও জরুরি। রসুন, হলুদ, বিট, গ্রিন টি ও লেবু লিভার পরিষ্কারে সহায়ক।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভার সিরোসিস ও হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুস্থ থাকতে হলে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষা নেওয়া

হেপাটাইটিস এ, বি ও সি ভাইরাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই টিকা গ্রহণ, জীবাণুমুক্ত ইনজেকশন ব্যবহার এবং নিরাপদ রক্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিরাপদ যৌন আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন টেস্ট (লেফট্) করানো উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা স্থূলতায় আক্রান্তদের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

অতিরিক্ত ওজন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করলে লিভার সুস্থ থাকে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়

অনেক ব্যথানাশক ওষুধ, স্টেরয়েড বা ভেজাল হারবাল সাপ্লিমেন্ট লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ধূমপান থেকে বিরত থাকা

ধূমপান ও মাদকদ্রব্য লিভারে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে, যা কোষ ধ্বংস করে দেয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা

প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম লিভারকে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই মেডিটেশন বা রিল্যাক্সেশন চর্চা উপকারী।

বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার গ্রহণ করা

দূষিত পানি ও খাবার থেকে হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়াতে পারে। তাই সবসময় নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সচেতন থাকা

জন্ডিস, ক্ষুধামান্দ্য, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, পেটের ডান পাশে ব্যথা-এসব লিভার সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102