আরবি শব্দ রিবার বাংলা প্রতিশব্দ সুদ। বর্তমানে সুদ সম্পর্কিত লেনদেন ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বিরাট অংশজুড়ে পরিব্যাপ্ত হয়ে গেছে। বড় আকারের প্রায় সকল ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভরশীল হয়ে গেছে সুদি লেনদেনের ওপর। ইসলামে সুদ জঘন্য ও ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, গরিব-মিসকিনকে সুদের টাকা না বলে সদকার উদ্দেশ্যে দান করা যাবে কি না।
সম্প্রতি সুদের টাকার বিষয়ে একজনের এমন প্রশ্নের জবাবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে ইসলামের বিধান ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, সুদের টাকা দান করে দিতে হবে। এখন গরিব-মিসকিনকে দিলে তার মনে কষ্ট পেতে পারে এমন চিন্তা থেকে যদি না বলে দেন, তাতে জায়েজ হবে। কারণ তার কাজ হচ্ছে ভোগ করা। আপনি না বলে দিলেও জায়েজ হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) সুদের সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষকে সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। জাবির (র.) ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (র.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, তিনি সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং সুদের সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, তারা সবাই সমপর্যায়ের দোষী (সহিহ মুসলিম : ১৫৯৮)। এ হাদিসটি সুদের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করে।
یَمْحَقُ اللهُ الرِّبٰوا وَ یُرْبِی الصَّدَقٰتِ وَ اللهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِیْمٍ.
আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। – সুরা বাকারা (২) : ২৭৬
অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা সুদ থেকে অর্জিত অর্থ বা তার বরকত নষ্ট করে দেন। আর সদকা দানকারীর অর্থ-সম্পদ বা তার বরকত বৃদ্ধি করে দেন।
সুদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সুদকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অন্য আয়াতে (সুরা বাকারা : ২৭৮, ২৭৯) আল্লাহ মুমিনদের সুদ বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, যারা সুদ বর্জন করবে না, তারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।