যশোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ এপ্রিল) জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসাইন বলেন, জুলাই বিপ্লবে ১৪ শতাধিক মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন। কিন্তু এখনো তাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন দাবি করলেও শহীদ পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং আহত ও পঙ্গুদের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। শহীদদের স্মরণে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থান পরিবর্তন জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, গণভোটের ৭০ শতাংশ রায় অস্বীকার করে তারা প্রমাণ করেছে যে জনগণের শক্তির প্রতি তাদের আস্থা নেই।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
ওয়ার্ড সভাপতিদের উদ্দেশে তিনি নৈতিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নৈতিকভাবে দুর্বল নেতৃত্ব সমাজে অস্থিরতা ও অন্যায় বৃদ্ধি করে। তাই সত্যনিষ্ঠ ও নীতিবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের কোনো অন্যায় না করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবু সাদিক বিশ্বাস, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুজাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক সামসুজ্জামান জামান, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম এবং জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলন শেষে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।