২০১৮ সালে বেলগ্রেডে ড্যানিয়েল কর্বেটকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয় যেটির সিরিয়াল নম্বর মোছা ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ছিল, তিনি দেশটির নেতা আলেকজান্ডার ভুচিককে হত্যা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সাবেক এই নেভি সিল সদস্য তিন সার্বীয় নাগরিকের সাথে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর সার্বিয়ার জেলে ১৮ মাস বন্দি ছিলেন।
সার্বীয় কর্মকর্তারা দ্রুতই বিবৃতি দেন যে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছিল এবং এমনকি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে কর্বেট দানিউব নদীতে মাছ ধরতে আসেননি। তবে ২০১৯ সালের জুনে প্রমাণের অভাবে কর্বেট অস্ত্র সংক্রান্ত সকল অভিযোগ থেকে খালাস পান।
এই ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো যখন কর্বেটের প্রাক্তন মার্সেনারি ইউনিট ‘স্পিয়ার’একটি আইনি জটিলতায় পড়েছে। ইয়েমেনি হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের একজন প্রাক্তন সদস্য মামলা করেছেন যে, এই ইউনিটটি তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। মামলার দাবি অনুযায়ী, ওই দলের নেতা সান ডিয়েগোর বাসিন্দা আব্রাহাম গোলান, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের হয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্মূল করতে ২৩ জনের একটি “কিল লিস্ট” বা হত্যার তালিকা নিয়ে কাজ করছিলেন।
নতুন এই মামলায় আসামি করা হয়েছে গোলান, আইজ্যাক গিলমোর এবং ডেল কমস্টককে। নথিতে কর্বেটের নাম উল্লেখ নেই। তবে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করা ‘সিল টিম সিক্স’-এর সদস্য হিসেবে পরিচিত কর্বেটকে গোলানের সাথে ছবিতে দেখা গেছে এবং তিনি এই ইউনিটে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন।
২০০৯ সালে সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে ক্যাপ্টেন রিচার্ড ফিলিপসকে উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নেওয়া কর্বেট তার ২০২৪ সালের বই “American Mercenary”-তে বেলগ্রেডের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। বইটির একটি উপশিরোনাম হলো “F—ing Serbia, man”। বইটির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, “২০১৭ সালে বেলগ্রেডে একটি কাজে গিয়ে কর্বেট গ্রেফতার হওয়ার পর সব বদলে যায়। কর্তৃপক্ষ যখন জানতে পারে তিনি একজন নেভি সিল, তারা সবচেয়ে খারাপটাই কল্পনা করে নেয়: তিনি সার্বীয় প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে এসেছেন। তারা কর্বেটকে জেলে ভরে দেয়, যেখানে তিনি পরবর্তী ১৮ মাস আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম হয়ে এবং একটি ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’ নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে কাটান।”
গত বছর একটি পডকাস্টে তিনি সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “হঠাৎ সামনের দরজা খুলে গেল… আর একজন ২০ বছরের তরুণ আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরল। আমি ম্যাগাজিনের স্প্রিংয়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম, তার আঙুল ট্রিগারে ছিল।”
তিনি আরও জানান, “একজন বড় পুলিশ কর্মকর্তা এসে বললেন, ‘ওহ, তুমি এখানে ভুচিকের জন্য এসেছ।’ আমি বললাম, ‘কার জন্য? না।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি ডিইএ, সিআইএ? কী করছ এখানে?’ আমি বললাম, ‘আমি কেবল সময় কাটাচ্ছি, আমি একজন প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর’।” কর্বেটের দাবি অনুযায়ী, ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেছিলেন যে মিডিয়াতে অলরেডি তার খুনি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
২০১৯ সালে খালাস পাওয়ার পর তাকে অবিলম্বে দেশ ছাড়তে বলা হয়। এদিকে, একটি ভিন্ন ঘটনায় তার আইনজীবীকে গ্যাংস্টার স্টাইলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
মার্সেনারি ইউনিটের কার্যক্রম
২০১৫ সালে গোলান এবং আরেক সাবেক নেভি সিল গিলমোর মিলে ‘স্পিয়ার’ গঠন করেন। মামলার দাবি অনুযায়ী, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছান যেখানে তারা আমিরাতের হয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করবেন। বিনিময়ে স্পিয়ারকে প্রতি মাসে ১.৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি সফল হত্যাকাণ্ডের জন্য বোনাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গোলান স্বীকার করেছেন যে ইয়েমেনে আমিরাতের মদতে একটি কিলিং প্রোগ্রাম চালানো হয়েছিল। এই দলের জন্য তারা সাবেক মার্কিন সেনা সদস্যদের নিয়োগ দেন, যাদের মধ্যে কমস্টক ছিলেন অন্যতম। তাকে মাসে ৪০ হাজার ডলার বেতন দেওয়া হতো।
তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আনসাফ আলী মায়ো, যিনি ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আল-ইসলাহ-এর সদস্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এডেনে দলটির সদর দপ্তরে বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়। ড্রোন ফুটেজে সেই ভয়াবহ হামলার দৃশ্য ধরা পড়ে। তবে মায়ো হামলার কয়েক মুহূর্ত আগে ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং এই ঘটনার কারণে মানসিক ও আবেগীয় ট্রমার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
স্পিয়ার-এর সদস্যদের সাথে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মায়োকেও মন্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট