ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে অচেতন আছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে ইরানের কোম শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোজতবা বর্তমানে জ্ঞানহীন অবস্থায় থাকায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দ্য টাইমস আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা তারা পরবর্তীতে সংগ্রহ করেছে। সেই নথিতে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থার উন্নতি হয়নি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো মোজতবার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি দেয়নি, ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় মোজতবার বাবা এবং সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে কোম শহরে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো তাকে দাফন করা হয়নি, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বেশ কিছু শর্ত তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অনুমতি দিতে হবে।
ইরান আরও বলেছে, তাদের দেশ পুনর্গঠন করে দিতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতায় না যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে তেহরান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস