মাঠের ক্রিকেট নাকি মাঠের বাইরের রাজনীতি—কোনটি আগে? দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের এই বিতর্কে এবার নিজেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তায় নিজের বর্তমান লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য।
সাকিব জানান, এই মুহূর্তে তার চিন্তা ও পরিকল্পনা কেবল লাল-সবুজের জার্সি আর ক্রিকেট ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশের হয়ে আবারও মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
সাকিব বলেন, ক্রিকেটের জন্য সময় সীমিত হলেও রাজনীতি করার জন্য আজীবন সময় পড়ে আছে। তাই আপাতত মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছিলেন, রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়েই রাজনীতি করার ইচ্ছার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান যখন ক্রীড়াবিদদের সক্রিয় থাকাকালে রাজনীতিতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, ঠিক তখনই সাকিবের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক পোস্টে সাকিব লিখেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্য বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। আমি সবার কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে।
সাকিব আরও লিখেন, ক্যারিয়ারের এই শেষ পর্যায়ে এসে আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলতে চাই।
সবশেষে সাকিব আরও যোগ করেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর আমি আমার দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। তবে সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়। রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ, রাজনীতির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়তো অনেক বেশি সহজ হয়।