ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের চারপাশে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া কিংবা ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের বাহক এই মশা এখন কেবল রাতের নয়, দিনের বেলাতেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশা তাড়াতে আমরা বাজারে প্রচলিত কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করি, যা অনেক সময় শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। অথচ ঘরোয়া কিছু সহজ পদ্ধতি এবং সচেতনতা অবলম্বন করলে মশার উপদ্রব কমিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
১. মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করুন
মশা নিধনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের বংশবিস্তার রোধ করা।
স্থির পানি অপসারণ: টব, ভাঙা পাত্র, এসির ট্রে বা ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরের চারপাশ পরীক্ষা করুন।
ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার: বাড়ির আশপাশের ড্রেন বা নর্দমায় ব্লিচিং পাউডার বা কেরোসিন তেল ছিটিয়ে দিলে মশার লার্ভা ধ্বংস হয়।
২. মশা তাড়াতে প্রাকৃতিক সমাধান
রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে কিছু প্রাকৃতিক উপায় বেশ কার্যকর:
নিম তেলের ম্যাজিক: নিম তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে শরীরে মাখলে মশা কামড়াতে পারে না। এছাড়া পানিতে নিম তেল মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করলে মশা দূর হয়।
লেবু ও লবঙ্গ: একটি লেবু দুই ভাগ করে তাতে লবঙ্গ গেঁথে ঘরের কোণায় রেখে দিন। লেবু ও লবঙ্গের কড়া ঘ্রাণ মশা সহ্য করতে পারে না।
কর্পূরের ধোঁয়া: ঘরের জানালা বন্ধ করে কর্পূর জ্বালিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। মশা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে বা মারা যাবে।
৩. জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন
মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
বিকেলের সতর্কতা: সূর্য ডোবার ঠিক আগে আগে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিন। জানলায় নেট ব্যবহার করলে মশা প্রবেশের পথ বন্ধ হয়।
পোশাকের ধরন: বাইরে বের হওয়ার সময় শরীর ঢাকা থাকে এমন হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। মশা গাঢ় রঙের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।
মশারি ব্যবহার: দিনের বেলা বা রাতে—যখনই ঘুমান না কেন, অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
মশা কামড়ালেও যেন শরীর তা মোকাবিলা করতে পারে, সেজন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল এবং প্রচুর পানি পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট থাকে।
মশা নিধন কেবল সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে একটি মশামুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। সামান্য অবহেলা যেন বড় কোনো বিপদের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব।