বিশ্বজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও রুবেলা নির্মূলে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এমআর ভ্যাকসিনকে। শিশুদের অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব রোধে এই টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় নিয়মিতভাবে এই টিকা প্রদান করা হয়।
এমআর টিকা কেন জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে রুবেলা খুব মারাত্মক না হলেও গর্ভবতী মায়েরা এতে আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে। এমআর টিকা এই দুটি রোগ থেকেই সুরক্ষা দেয়।
কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এমআর টিকা অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং নিরাপদ। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী:
উচ্চ সুরক্ষা হার: এক ডোজ এমআর টিকা হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৫% এবং দুই ডোজ টিকা প্রায় ৯৯% সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টিকাদানের ফলে হামজনিত নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis) এবং ডায়রিয়ার মতো জটিলতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
হার্ড ইমিউনিটি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ এই টিকার আওতায় থাকে, তবে সেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে না।
টিকা দেওয়ার সঠিক সময়
সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের দুটি পর্যায়ে এই টিকা দেওয়া হয়:
১. প্রথম ডোজ: শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হলে।
২. দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর ১৫ মাস পূর্ণ হলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ জানান, ‘অনেকে টিকার পর সামান্য জ্বর বা শরীর ব্যথার ভয়ে পিছিয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, টিকার সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চেয়ে হামের জটিলতা অনেক বেশি ভয়াবহ। সঠিক সময়ে টিকা নিলে শিশু আজীবন এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে।’
হাম ও রুবেলা নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বাড়ির কাছের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে শিশুকে এমআর টিকা দেওয়া নিশ্চিত করাই হলো তাকে সুস্থ রাখার প্রথম পদক্ষেপ।