দৈনন্দিন জীবনে লেনদেন বা ব্যবসার প্রয়োজনে আমরা একে অপরকে ধার দিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক সময় পাওনা টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়া বা ঋণগ্রহীতার টালবাহানার কারণে পাওনাদারকে চরম দুশ্চিন্তা ও সংকটে পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ইসলামে কিছু বিশেষ দোয়া ও আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা পাওনা টাকা আদায়ে সহায়ক হতে পারে।
আল্লাহ্র ওপর ভরসা ও ধৈর্য
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, যেকোনো সংকটে প্রথমত আল্লাহ্র ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। পাওনা টাকা দ্রুত ফিরে পেতে এবং ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের বিশেষ কিছু দোয়া শিখিয়েছেন।
বিশেষ কিছু দোয়া ও আমল
সুরা আল-ইমরানের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াত: অনেক আলেম পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই আয়াতগুলো পাঠ করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর একনিষ্ঠভাবে দোয়া করলে আল্লাহ্র রহমতে পথ সহজ হয়।
দোয়ায়ে মাসুরা: নামাজের শেষ বৈঠকে আমরা যে দোয়াটি পড়ি, তাতে ঋণ থেকে মুক্তির প্রার্থনা রয়েছে।
ইস্তিগফার পাঠ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বেশি বেশি পাঠ করা রিজিক বৃদ্ধি এবং আটকে থাকা টাকা উদ্ধারে বরকত নিয়ে আসে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া:
“আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।”
(অর্থ: হে আল্লাহ ! আপনার হালাল রিজিকের মাধ্যমে আমাকে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।)
টাকা উদ্ধারের জন্য তাগাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার চেয়ে নম্রতা বজায় রাখার পরামর্শ দেয় ইসলাম। ঋণগ্রহীতা যদি সত্যিই অভাবে থাকেন, তবে তাকে সময় দেওয়া সওয়াবের কাজ। আর যদি কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও টাকা দিতে গড়িমসি করে, তবে তার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যেমন সুযোগ আছে, তেমনি বিনয়ের সাথে আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাওয়াও জরুরি।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, আমলের পাশাপাশি লেনদেনের সময় লিখিত চুক্তি বা সাক্ষী রাখা জরুরি। তবে যারা বর্তমানে টাকা আটকে থাকার কারণে হতাশায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে সিজদায় গিয়ে আল্লাহ্র কাছে একান্ত মনে সাহায্য চাইলে ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হবে।