দেশে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে হামের (Measles) প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বায়ুবাহিত এই রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সময়মতো সতর্ক না হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের প্রধান পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :
১. টিকা নিশ্চিত করা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর (MR) টিকা দেওয়া হয়। কোনো শিশু এই টিকা মিস করলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তা সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা
হাম একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোগ। বাড়ির কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন আলাদা ঘরে রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের থেকে রোগীকে দূরে রাখতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত গ্লাস, থালা-বাসন বা তোয়ালে অন্য কেউ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-এ (Vitamin-A)
বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের কারণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই আক্রান্ত শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস এবং সুষম খাবার দিতে হবে। এ ছাড়া হামের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।
৪. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
যেহেতু এটি বায়ুবাহিত এবং স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা উচিত। ঘরের জানালা খোলা রেখে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বর আসার পাশাপাশি যদি শরীরে লালচে দানা (র্যাশ) দেখা দেয়, চোখ লাল হয়ে যায় এবং সাথে তীব্র কাশি থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ সেবন না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।