ভ্রমণের আনন্দ অনেকের কাছেই বিষাদে পরিণত হয় যদি যাত্রা পথে বমি বা মাথা ঘোরানোর সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাস, ট্রেন বা নৌযানে গতির উল্টো দিকে মুখ করে বসলে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। কেন এমন হয় এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী। চলন্ত গাড়ির গতির উল্টো দিকে মুখ করে বসলে মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘মোশন সিকনেস’ (Motion Sickness) বলা হয়।
সমস্যার মূল কারণ: মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি
আমাদের শরীর যখন গতিশীল থাকে, তখন শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তিনটি অঙ্গ সমন্বয় করে কাজ করে- চোখ, ভেতরের কান (Inner Ear) এবং স্নায়ুতন্ত্র।
সংকেতের অমিল: আপনি যখন উল্টো দিকে মুখ করে বসেন, তখন আপনার চোখ দেখে যে আপনি সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনার কানের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) অনুভব করে যে শরীর গতির উল্টো দিকে আছে।
মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি: চোখ একরকম সংকেত দিচ্ছে আর কান দিচ্ছে অন্যরকম। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই বিভ্রান্তির প্রতিক্রিয়ায় শরীর এক ধরনের ধকল অনুভব করে, যার ফলে মাথা ঘোরা, ঘাম হওয়া এবং বমি বমি ভাব শুরু হয়।
প্রতিকারের উপায়
১. সঠিক আসন নির্বাচন: গাড়িতে সবসময় গতির দিকে মুখ করে বসার চেষ্টা করুন। বাসের সামনের দিকে বা ট্রেনের গতির অনুকূলে আসন নিলে মোশন সিকনেস কম হয়।
২. দূরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা: জানালার বাইরে খুব কাছের দ্রুতগামী বস্তুর দিকে না তাকিয়ে দূরের স্থির কোনো দিগন্ত বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকুন। এটি মস্তিষ্ককে গতির সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।
৩. বই পড়া বা মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখা: চলন্ত অবস্থায় ছোট অক্ষরের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে এবং বমি ভাব বাড়ে।
৪. পর্যাপ্ত বাতাস: গাড়ির জানালা সামান্য খুলে দিন যাতে তাজা বাতাস চলাচল করতে পারে। আবদ্ধ স্থানে ভ্যাপসা গন্ধে সমস্যা বাড়তে পারে।
৫. আদা বা লবঙ্গ: সাথে আদা কুচি বা লবঙ্গ রাখতে পারেন। বমি ভাব শুরু হলে এগুলো মুখে দিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
৬. ওষুধের ব্যবহার: সমস্যা খুব বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্রমণের আধা ঘণ্টা আগে বমিরোধী ট্যাবলেট (যেমন: এভোমিন বা ডমপেরিডোন জাতীয় ওষুধ) সেবন করা যেতে পারে।
মোশন সিকনেস কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ নয়, বরং এটি একটি সাময়িক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। একটু সচেতনতা এবং আসনের সঠিক বিন্যাস আপনার ভ্রমণকে স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।