ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রেখে পাহাড় ও সমতলের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চল দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় ভিন্ন ও সংবেদনশীল। আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বর্ষবরণ উৎসব প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবার উৎসবের নামকরণে শুধু ‘বৈসাবি’ শব্দ ব্যবহারের পরিবর্তে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিজু, সাংগ্রাই, বৈষু, বিষু, চাংক্রান, সাংক্রান, সাংগ্রাইংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় পার্বত্য অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণ, সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এ দিন গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথাও স্মরণ করেন তিনি। অপারেশন সার্চলাইট-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, যিনি ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।