বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়তে ১২ দফা পরিকল্পনা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে রাজধানীকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশসম্মত করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো উন্নত করা হচ্ছে। এসব স্থানে সবুজায়ন, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সচেতনতামূলক গ্রাফিতির কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ধারণা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

সংসদ অধিবেশন শুরু হয় সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মোট ৮টি প্রশ্ন থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি ২টি প্রশ্নের উত্তর দেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান, দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ‘মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে’ নগর বনায়ন এবং সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে উত্তর সিটি এলাকায় ৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে থাকা খালি জায়গাগুলোতেও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নগরীর অব্যবহৃত স্থানগুলোকে সবুজে রূপ দেওয়া যায়।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক গণপরিবহন চালুর পাশাপাশি ২৫০টি বৈদ্যুতিক বাস সংযোজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে, বিশেষ করে কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে।

রাজধানীর চারপাশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চলছে এবং সাভার অঞ্চলকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে দূষণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি নদী, খাল ও জলাশয়ের দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং এগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগসহ প্রধান নদী ও ঢাকার খালগুলোর দূষণের উৎসও চিহ্নিত করা হয়েছে।

নগরকে সবুজে ঢেকে দিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে রাস্তার মিডিয়ান, খালের পাড় ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে।

সরকার আশা করছে, সমন্বিত এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102