ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৩ মার্চ) রাতেই তাদের কলকাতা থেকে বিমানে করে দিল্লিতে পাঠানো হয়। আজ মঙ্গলবার তাদের এনআইএর বিশেষ আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২২ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালত এই দুই আসামিকে এনআইএর জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে এনআইএ আদালতে নতুন আবেদন করলে বিচারক তাদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ‘ইউএপিএ’-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এর আগে বিচারক নিশান মজুমদার তাদের ১২ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ২ এপ্রিল নির্ধারণ করেন।
তবে গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গত ৭ ও ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।