বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

১৫ বছরে ২১ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে দেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট জালিয়াতির মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ আনুমানিক ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া-এর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এর অংশ হিসেবে এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকের প্যানেল আলোচনায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

এ সময় মন্ত্রী ডিজিটাল জালিয়াতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রতারণা, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে গত ১৫ বছরে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই এবং বিভিন্ন ই-কমার্স উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশলে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করছে, যা মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী নজরদারি প্রয়োজন।

মন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এই ধরনের অবৈধ অর্থপ্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি আধুনিক ‘হোয়াইট কলার’ অপরাধ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নয়। তাই বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলায় আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে।

বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতারণা প্রতিরোধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো- প্রতারণার নতুন কৌশল বোঝার জন্য ব্যাপক গবেষণা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা এবং বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এ ধরনের অপরাধের বৈশ্বিক চরিত্রের কারণে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে এগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরকালে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সম্মেলন শেষে আগামী ২০ মার্চ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102