রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

সরকারি অফিস দখল করে আবাসস্থল বানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কক্ষ দখল করে আবাসস্থল বানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা শহরের দক্ষিণ কোর্টগাঁও এলাকায় অবস্থিত ওই অফিস ভবনের তৃতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষে অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

তিনতলা বিশিষ্ট অফিস ভবনের তৃতীয় তলার পৃথক পাঁচটি কক্ষে বসবাস করছেন গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী, হিসাবরক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন, অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রেজাউল হক।

এ ছাড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম মাঝে মাঝে সেখানে রাতযাপন করেন বলে জানা গেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনেই অফিসের কক্ষগুলোকে আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্ষগুলোতে খাট, চেয়ার-টেবিল, আলমারিসহ বসবাসের নানা আসবাবপত্র রাখা রয়েছে। একই সঙ্গে রান্নাবান্নার বিভিন্ন সরঞ্জামও সেখানে দেখা গেছে। সরকারি অফিসের কক্ষ ব্যক্তিগত আবাসিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও দেখা গেছে, তৃতীয় তলার ১৬ নম্বর কক্ষে বিছানাপত্র নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি সপ্তাহে দু-এক দিন ওই কক্ষে অবস্থান করেন। তার পাশের ১৪ নম্বর কক্ষে খাট ও অন্যান্য আসবাবপত্র রেখে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মাঝে সেখানে অবস্থান করেন।

একইভাবে ১৫ নম্বর কক্ষে হিসাবরক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেনও মাঝেমধ্যে থাকেন। প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রেজাউল হক ১৩ নম্বর কক্ষে বসবাস শুরু করেন এবং এখনো সেখানে থাকছেন। এ ছাড়া অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন গত দুই বছর ধরে ১২ নম্বর কক্ষে বসবাস করছেন।

সরেজমিনে কথা হলে শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রেজাউল হক জানান, ২০১৫ সাল থেকে তিনি অফিসের ওই কক্ষে বসবাস করছেন। এ জন্য তিনি সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা জমা দেন না। তিনি বলেন, আমিসহ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে থাকছি।

বসবাসের বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমার বাড়ি বরিশালে। আমার স্ত্রী-সন্তানরা সেখানেই থাকেন। আমি মাঝেমধ্যে এখানে একটি কক্ষে থাকি। ভবিষ্যতে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়েই এখানে থাকব।

হিসাবরক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি গত বছরের জুলাই মাসে এখানে যোগদান করেছেন এবং মাঝে মাঝে ওই কক্ষে অবস্থান করেন।

অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি সেখানে দুই বছর ধরে চাকরি করছেন। তবে কত দিন ধরে অফিস কক্ষে বসবাস করছেন- এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস কক্ষে বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, অফিসকক্ষে থাকার কোনো নিয়ম নেই। তিনি মাঝে মাঝে অফিসের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে রাতযাপন করেন। এ ছাড়া অফিস সহায়ক জাকির ও গাড়িচালক রেজাউল দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তবে তারা সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা দেন না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সরকারি অফিসের কক্ষকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তার জানা নেই। যদি কেউ অফিসের কক্ষে বসবাস করে থাকেন, তবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102