ময়মনসিংহে বাজারে সবপ্রকার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। যেখানে গরু ও খাসির মাংসের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটে ব্রয়লার, কক ও সোনালি মুরগির মাংস কিনে। এতেও পড়েছে সিন্ডিকেকেটের থাবা। এতে রমজান মাসে নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে মাংস খাওয়া প্রায় অসম্ভব। বাজারে আসা ক্রেতাদের দাবি, বিক্রেতারা সিণ্ডিকেট করে মুরগির দাম বাড়িয়েছে। যে কারণে ব্রয়লার মুরগিও নাগালের বাইরে, দাবি ক্রেতাদের।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে নগরীর প্রধান ঐতিহ্যবাহী মেছুয়া বাজারে গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারে মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহ ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অথচ এখন কেজিতে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
সোনালি কক ২৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৩১০ ও সাদা কক মুরগি ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থিতিশীল অবস্থায় হাঁসের ডিম ৬০ টাকা হালি, ফার্মের মুরগির ডিম ৩৫ টাকা হালি, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি কেনার সময় কথা হয় তোফায়েল মিয়া নামে একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুরগি বিক্রেতা প্রচুর মুরগি নিয়ে বসে আছেন। অথচ দাম বেড়ে গেছে বলে ক্রেতাদের জানানো হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সিণ্ডিকেট করে মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করলে দাম কমবে বলে প্রত্যাশা করছি।
মুরগি বিক্রেতা আসাদুল হক বলেন, সব মুরগি বিক্রেতা যে দামে বিক্রি করছেন, আমিও একই দামে বিক্রি করছি। এতে আমাদের যৎসামান্য লাভ হচ্ছে।
বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ ৯০ টাকা থেকে কমে ৮০, সজনে ২০০ টাকা থেকে কমে ১৯০, শসা ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০, বেগুন ৬০ টাকা থেকে কমে ৫০, বরবটি-৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ ও ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহ ভালো মানের লেবু ৭০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল অবস্থায় কাঁচা পেঁপে ৩০, টমেটো ২০, গাঁজর ৩০, শিম ৩০ টাকা কেজিতে, চালকুমড়া ৬০ টাকা পিস, ফুলকপি ৪০ টাকা পিস, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি ও ধনেপাতা ২০ টাকা আঁটিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি কিনছিলেন শরাফ উদ্দিন। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, সবজিতে ভরপুর বাজার। এতে দামও কমেছে। তবে বাজার মনিটরিং জোরদার থাকলে সবজির দাম আরও কমে যাবে।
সবজি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে প্রচুর পরিমাণ সবজি বাজারে আসছে। আড়তদাররা আগের চেয়ে কম দামে সবজি কিনতে পারছেন। ফলে তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কম দামে বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতা পর্যায়েও দাম কমেছে। তবে আড়তদাররা দাম বাড়ালে আমরাও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হব।
এ ছাড়া বাজারে কালিবাউশ ৩০০-৩৭০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৫০-৬৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২১০-২৮০ টাকা, শোল ৫৪০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, টাকি ৪১০-৫৪০ টাকা, কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকা, পাবদা ৪৩০-৫৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০ টাকা ও রুই ৩২০-৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ময়মনসিংহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, বাজারে আমাদের নজরদারি রয়েছে। তবে অসাধু বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতে চেষ্টা করেন। বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।