সুন্নতে খৎনা করানোর পর শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। বুধবার (৪ মার্চ) সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নিবন্ধন স্থগিত হওয়া দুই চিকিৎসক হলেন ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাসনুভা মাহজাবিন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ।
বিএমডিসির ৫৪তম কাউন্সিল সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, শিশু আয়ানের খৎনা সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পেশাগত আচরণে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় তাদের নাম রেজিস্টার থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে ছয় মাসের জন্য নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় তারা দেশের কোথাও চিকিৎসা প্রদান কিংবা নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। সিদ্ধান্তটি ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।
উল্লেখ্য, আয়ান রাজধানীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনা করাতে নেওয়া হয়। অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও কয়েক ঘণ্টা পরও তার জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে আট দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চিকিৎসকরা আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি শিশুটির বাবা শামীম আহমেদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।