সৌদি আরবের মক্কায় চলতি ১৪৪৭ হিজরি (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) শিক্ষাবর্ষের পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যায় এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের হারামাইন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ওমরাহযাত্রীদের উপস্থিতিতে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে।
গত ৪ রমজান (২১ ফেব্রুয়ারি) মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ৯ লাখ ৪ হাজার মুসল্লি ওমরাহ সম্পন্ন করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৪৪৬ হিজরি) একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ওমরাহযাত্রীর সমাগম হয়েছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই বিশাল প্রবৃদ্ধি ওমরাহ পালনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে নির্দেশ করে।
বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে এবং ওমরাহ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে
মাতাফ এলাকা সংরক্ষণ : কাবার চারপাশের সাদা মার্বেল পাথরের চত্বর বা ‘মাতাফ’ এলাকাটি এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুধু ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত। সাধারণ দর্শনার্থী বা নিয়মিত নামাজিদের ভিড় এড়াতে এই অংশে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পরিবহন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ : মক্কার কেন্দ্রীয় এলাকায় যানজট নিরসনে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরবাইক এবং সাইকেল প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত পার্কিং জোন ছাড়া গাড়ি রাখা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
শাটল বাস সার্ভিস : মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরসহ শহরের ১৪টি কৌশলগত পার্কিং পয়েন্ট থেকে বিশেষ সরকারি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।
চলাচলের পথ সচল রাখা : মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ এবং যাতায়াতের করিডোরে অবস্থান নেওয়া বা বসে থাকাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে জনস্রোত বাধাগ্রস্ত না হয়।
হারামাইন প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, জুমার নামাজ এবং প্রতিদিনের তারাবি ও এশার সময় উপস্থিতির চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় মূল মসজিদের ভেতরে জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে মুসল্লিদের বাইরের চত্বর কিংবা নিকটস্থ অনুমোদিত মসজিদগুলোতে নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ওমরাহযাত্রীদের এই রেকর্ড পরিমাণ উপস্থিতি সামলাতে সৌদি সরকারের উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এক সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।