যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে পবিত্র মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়, যার ফলে রমজানের ভরা মৌসুমেও মুসল্লিশূন্য হয়ে পড়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণ।
শনিবার ভোরে ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। এই পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে শনিবার জোহরের আজানের আগেই জেরুজালেম এবং আশপাশের এলাকা থেকে আসা মুসল্লিদের আল-আকসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে মাগরিব, এশা ও তারাবির জামাত বন্ধ করে দিয়ে মসজিদের ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় দখলদার পুলিশ।
ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগ জানিয়েছে, হাজার হাজার মুসল্লির পরিবর্তে কেবল মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী অত্যন্ত সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় করেছেন।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, এ বছর রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লি আল-আকসায় নামাজ আদায় করে আসছিলেন। তবে বর্তমান ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র অজুহাতে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ড পুরো রমজান মাসজুড়ে আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
মসজিদুল আকসার এই জনশূন্য চিত্র অনেকের মনে ২০২০ সালের করোনা মহামারির স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে গবেষক জিয়াদ ইভহাইস একে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, রমজানে আকসা বন্ধ রাখা আসলে একে সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এবং ইহুদিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার একটি চূড়ান্ত ধাপ। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
শুধু মসজিদই নয়, পুরোনো শহরের ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের ওপরও নেমে এসেছে কড়াকড়ি। নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে পুলিশ। বিশেষ করে মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর থাকা কাত্তানিন বাজার এখন জনশূন্য। অন্যদিকে, একই সময়ে পুলিশি পাহারায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, শুধু আল-আকসাই নয়; হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও একই অজুহাতে তালা ঝুলিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।