সিয়াম সাধনার মাস রমজান। মাসের শুরু থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে চড়া দামের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুধসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। পাঁচ বছর ধরে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় জে সি এগ্রো ফার্ম। রমজান মাসজুড়ে তারা দুধ বিক্রি করছে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে।
জে সি এগ্রো ফার্মটি করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর রৌহা গ্রামে অবস্থিত। এই খামারে বর্তমানে মোটাতাজাকরণসহ প্রায় ২৫০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি দুধেল গাভি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেজি দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। সেই দুধ বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে, মাত্র ১০ টাকা কেজি ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের প্রথম দিন থেকেই প্রতিদিন সকাল ১০টায় দুধ বিক্রি শুরু হয়। যাতে বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন, সে জন্য একজন সর্বোচ্চ এক কেজি করে দুধ কিনতে পারছেন। প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ জন নিম্ন আয়ের মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এসে দুধ সংগ্রহ করছেন।
বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার দুধ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই তুলনায় ১০ টাকায় দুধ পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
নিয়ামতপুর গ্রামের আল-আমিন বলেন, ‘রমজানে খরচ অনেক বেড়ে যায়। বাজারের দামে দুধ কিনে খাওয়া সম্ভব হয় না। জে সি ফার্ম ১০ টাকায় দুধ দিচ্ছেন, তাই অন্তত সেহরীতে পরিবারের জন্য দুধ নিতে পারছি।’
এ বিষয়ে জে সি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, ‘রমজান মাসে দুধের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু অনেকেই উচ্চ দামে কিনতে পারেন না। তাদের কথা চিন্তা করেই নামমাত্র মূল্যে, ১০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করছি। পুরো রমজান মাসজুড়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও জানান, পুরো মাসে প্রায় দুই টন দুধ ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ জনের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; বরং সমাজে সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে। রমজানের চেতনায় গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।