ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন নম্বর ২০৪, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে সাত প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটযুদ্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন মাত্র দুজন। বাকি পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ১২৯টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৪টি। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। এই দুই প্রার্থীই মোট প্রদত্ত ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। সেই হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. ইমদাদুল্লাহ হাশেমি পেয়েছেন ৭ হাজার ১৮৬ ভোট। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান চন্দন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ২৬১ ভোট। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ পার্টির মোহাম্মদ রেহান আফজাল আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ২০৭ ভোট। তারা কেউই নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও বিধি অনুযায়ী তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত ভোটের হার পূরণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা থাকে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২৯টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় বিএনপি মনোনীত মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে প্রাথমিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।