২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য সরকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও ভাতার ব্যবস্থা করেছে। জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের পরিবারকে সম্মাননা জানাতে এবং গুরুতর আহতদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীর সম্পূর্ণ তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং ভাতার টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব বা জটিলতা হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য সরকার নিম্নলিখিত সহায়তা ঘোষণা করেছে :
১. এককালীন অনুদান : প্রতিটি শহীদ পরিবারকে মোট ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এটি দুই ধাপে হস্তান্তর করা হবে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা।
২. মাসিক ভাতা : শহীদ পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
৩. আহত যোদ্ধাদের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসন : আহত যোদ্ধাদের আঘাতের ধরন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সরকার তাদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে সহায়তা প্রদান করছে:
ক্যাটাগরি ‘এ’ গুরুতর আহত (স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন) মাসিক ভাতা ২০,০০০ ও এককালীন সহায়তা ৫,০০,০০০ টাকা;
ক্যাটাগরি ‘বি’ আংশিক আহত (সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে) মাসিক ভাতা ১৫,০০০ টাকা ও এককালীন সহায়তা ৩,০০,০০০ টাকা;
ক্যাটাগরি ‘সি’ সাধারণ আহত (বর্তমানে সুস্থ বা চিকিৎসাধীন) মাসিক ভাতা ১০,০০০ টাকা ও এককালীন সহায়তা ১,০০,০০০ টাকা।
এ ছাড়া চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আহত যোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের কর্মসংস্থান এবং সমাজে পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উপসংহার জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের ত্যাগকে স্বীকার করে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার এই প্রচেষ্টা সরকারের একটি মানবিক উদ্যোগ। এই সহায়তা সঠিক সময়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারকে সরকারি ভাতা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান।
১. আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির বর্তমান চিত্র
(ক) শহীদ পরিবার : প্রায় ৮৩৪টি শহীদ পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে বাকি ২০ লাখ টাকা (মোট ৩০ লাখের মধ্যে) পরবর্তী ধাপে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়ার বিষয়টি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলমান।
(খ) আহত যোদ্ধা : আহতদের চিকিৎসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী এককালীন সহায়তা (১ থেকে ৫ লাখ টাকা) বিভিন্ন ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকের টাকা ব্যাংকে পৌঁছেছে, তবে কিছু আহত ব্যক্তি এখনো তাদের নির্ধারিত ক্যাটাগরি কার্ড বা ভাতার টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
২. মাসিক ভাতা ও জটিলতা
আহত যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা (১০ থেকে ২০ হাজার টাকা) ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য গত জুলাই থেকে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে আহতদের সঠিক তালিকা এবং ক্যাটাগরি নির্ধারণে বিলম্ব, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে অমিল, এবং অনেক আহত ব্যক্তির এখনো কার্ড না পাওয়া। তবে সরকার সম্প্রতি একটি বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা এবং দ্রুত ভাতার টাকা পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।