মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে নতুন নির্দেশনা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটাররা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে ভোট প্রদানের সময় গোপন কক্ষে বা ব্যালট মার্কিংয়ের স্থানে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সহকারী সিনিয়র সচিব শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভোটারদের গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ভোটাররা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কেন্দ্রের বাইরে বা সাধারণ এলাকায় মোবাইল বহনে কোনো বাধা থাকবে না।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, অঙ্গীভূত আনসার বা সাধারণ আনসার-ভিডিপির মধ্যে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন সদস্য। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি সাংবাদিক এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও দায়িত্ব পালনের স্বার্থে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট এবং সাধারণ ভোটাররাও মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে ভোট প্রদানের সময় কেউ যদি গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন বা ছবি তোলার চেষ্টা করেন, তাহলে তা নির্বাচনি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর আগে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাচন কমিশন। এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই রাজনৈতিক দল, নাগরিকসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি। তিনি এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।

ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মোবাইল ফোন বহনের বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দিল নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থার পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102