যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে আছেন বলে জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সাময়িকীর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানই শীর্ষ দাবিদার।
দি ইকোনমিস্টের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে গত ১৮ মাস আগে সংঘটিত ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম নির্বাচন। সেই সময়ে ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনকারীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক সম্পর্কের দ্বার উন্মোচন হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে ‘যথাযথ’ কোনো নির্বাচন হয়নি। দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোটের সুযোগ পাননি।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় সমর্থকের উচ্ছ্বাসের বর্ণনা দিয়ে দি ইকোনমিস্ট লিখেছে, বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন এবং সমর্থকরা রাস্তায় ছুটে এসে বাসটি ধীরগতিতে অনুসরণ করছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালিত হবে। এ ছাড়া সরকারের মাধ্যমে রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা করার জন্য নতুন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
দি ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিলে সংযত শাসন দেবে বলে দাবি করলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দলটি একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদে ১৮টির বেশি আসন প্রাপ্ত ইতিহাস নেই।
সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বিএনপির ‘জনমত জরিপে’ এগিয়ে থাকার কারণে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রতিবেদন অনুসারে, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি যুব প্রশিক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেবেন। তিনি সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
দি ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, তারেক রহমানের পরিবার বহু বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। তার মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় এসেছিল। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান কিছু ‘অফ দ্য রেকর্ড’মন্তব্যও করেছেন, যা জনগণের সঙ্গে তার নতুন সংযোগ নির্দেশ করছে।