নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থীরা ওপরে বাঁ থেকে– আবদুল আউয়াল মিন্টু, আসলাম চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের ও এমএএইচ সেলিম; নিচের বাঁ থেকে– সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. জালাল উদ্দীন, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও মো. সফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থীরা ওপরে বাঁ থেকে– আবদুল আউয়াল মিন্টু, আসলাম চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া তাহের ও এমএএইচ সেলিম; নিচের বাঁ থেকে– সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. জালাল উদ্দীন, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও মো. সফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনি প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ১ হাজার ৯৯৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৫৬ জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছে, যে প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের সম্পদ শতকোটি টাকার বেশি। মোট ৮৯১ প্রার্থী কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন।
চলুন, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর পরিচয় জেনে নেওয়া যাক—
আবদুল আউয়াল মিন্টু
ধনী প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচনি হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ৬০৭ কোটি টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি টাকা। অপরদিকে, তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে রয়েছে ১০০ কোটি টাকার সম্পদ, তিনিও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
এ ছাড়া হলফনামায় আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের নামে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা দায় থাকার তথ্য দিয়েছেন। তবে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কোনো দেনা নেই। একই সঙ্গে একক ও যৌথভাবে তার নামে ২৮০ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী
ধনী প্রার্থীদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। নির্বাচনি হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, তার ও তার স্ত্রী জামিলা নাজনীল মাওলা এবং কন্যা মেহরীন আনহারের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সম্মিলিত মূল্য ৪৭৪ কোটি টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই পেশাগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে মোট ৩৪৫ কোটি টাকার ঋণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফখর উদ্দিন আহমেদ
ধনী প্রার্থীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন ময়মনসিংহ-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৯৯ কোটি টাকা।
এর মধ্যে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের নামে রয়েছে সাত কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ। ফখর উদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী— দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী। পাশাপাশি হলফনামায় তার নামে ১৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
জাকারিয়া তাহের
ধনী প্রার্থীদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে আছেন কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৯২ কোটি টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী দুজনই পেশাগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া তার হলফনামায় কোনো ঋণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী শীর্ষ তালিকায়
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৫৬ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জায়গা করে নিয়েছেন শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকায়।
সালাউদ্দিন আলমগীর
পঞ্চম অবস্থানে আছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, তার ও তার স্ত্রী সুলতানা জাহানের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সম্মিলিত বাজারমূল্য ২৮৩ কোটি টাকা।
এমএএইচ সেলিম
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম। বিএনপির সাবেক এই সংসদ সদস্য বাগেরহাট-১, ২ ও ৩—এই তিনটি আসনে নির্বাচন করছেন। হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, তার একক মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২৬২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে তার নামে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার দায়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
মো. জালাল উদ্দীন
তালিকার সপ্তম স্থানে আছেন চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীন। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, তার এবং তার স্ত্রী শাহনাজ শারমীনের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ২৪৯ কোটি টাকা। পেশাগতভাবে দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। হলফনামার তথ্যে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগে মো. জালাল উদ্দীন ঢাকায় অবস্থিত স্পেন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন।
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
ধনী প্রার্থীদের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, তিনি, তার স্ত্রী শাহনাজ সিরাজ এবং পুত্র আসিফ রাব্বানী তিনজনই পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ২০৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি একটি ব্যাংকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নামে ২৭ লাখ টাকার ঋণের তথ্য রয়েছে।
মোহাম্মদ ফজলুল আজিম
নবম অবস্থানে আছেন নোয়াখালী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তার স্ত্রী শামীমা আজিমের নামে রয়েছে ২১ কোটি টাকার সম্পদ। পেশাগতভাবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
মো. সফিকুর রহমান
শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর তালিকার দশম স্থানে রয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সফিকুর রহমান। টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ১৮৫ কোটি টাকা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী এবং দুটি ব্যাংকে তার নামে ৪১ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে।