পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর চালানো সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
সরফরাজ বুগতি বলেন, প্রায় ৪০ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে প্রদেশের ১২টি শহরে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হয়। এসব হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসীরা কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ হামলায় নিহত ১৪৫ সন্ত্রাসীর মরদেহ বর্তমানে কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে। গোয়াদারে সন্ত্রাসীদের হামলায় পাঁচ নারী ও তিন শিশু নিহত হন। নিহতরা সবাই খুজদারের বাসিন্দা এবং বালুচ সম্প্রদায়ের সদস্য।
বিএলএকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আলোচনার যোগ্য নয় উল্লেখ করে বুগতি বলেন, ‘ওরা অস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ চাপিয়ে দিতে চায়। সরকার এক সেকেন্ডের জন্যও আত্মসমর্পণ করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওরা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে পারবে না।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর একদিন আগেই অভিযান শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা রেড জোনে প্রবেশের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া নুশকিকে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্যান্য এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুগতি বলেন, সন্ত্রাসীরা বেসামরিক জনগণের মধ্যে মিশে মানবঢাল হিসেবে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করেছে। আমরা চাইলে মর্টার ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারতাম, কিন্তু বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় তা করা হয়নি।
তিনি জানান, কোয়েটায় সেফ সিটি ক্যামেরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। নজরদারি জোরদারে আটটি শহরে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে।
আফগান সংযোগের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, হামলায় আফগানিস্তান-সংযোগের প্রমাণ মিলেছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধাস্ত্র খোলা বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এবং কিছু আফগান নাগরিক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, বিএলএ নেতা বশির জেব, রেহমান গুল ও আল্লাহ নজর বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন।
বুগতি বলেন, ওরা বালুচ পরিচয়ের কথা বললেও নিজেরাই বালুচ নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। সন্ত্রাসীর কোনো জাতিগত পরিচয় নেই—সে কেবল সন্ত্রাসী।
রাষ্ট্রের আগের পুনর্মিলন নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব নীতি সন্ত্রাস দমনে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে পাকিস্তানের সংবিধানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এর পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব।